জাহিলিয়্যাত
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
আমার উম্মতের মধ্যে জাহেলিয়াতের চারটি স্বভাব রয়েছে, যা তারা পরিত্যাগ করবে না-
(১) আভিজাত্য নিয়ে গৌরব করা।
(২)বংশের ব্যাপারে তিরষ্কার করা।
(৩)তারকার মাধ্যমে বৃষ্টি অন্বেষণ করা ও
(৪)মৃত ব্যক্তিদের উপর বিলাপ করা।
বিলাপকারী যদি তাওবা না করে, তবে কিয়ামতের দিন তাকে যখন উত্থিত করা হবে, তখন তার উপর থাকবে আলকাতরার তৈরি জামা, খোস-পাঁচড়ার ঢাল।
হাদিসটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম রাহিমাহুল্লাহ।
অত্র হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, মৃত ব্যক্তিদের উপর বিলাপ করা, জাহিলিয়াতের নিন্দনীয় স্বভাব। অতএব, তা পরিত্যাগ করা ওয়াজিব।
ইসলাম আসার পর মুসলিম সমাজে জাহিলিয়াতের অনুপ্রবেশের কোনো অবকাশ নেই। মহান আল্লাহ কুরআনে কারীমে এরশাদ করেন-
افحكم الجاهلية يبغون ومن أحسن من الله حكما لقوم يوقنون
‘‘তারা কি জাহিলিয়াতের বিধান কামনা করে? অথচ বিশ্বাসী জাতির জন্য আল্লাহই সর্বোত্তম বিধানদাতা" –সূরা মায়িদা, আয়াত: ৫০
হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, তিন ধরণের লোক আল্লাহর কাছে অধিক ঘৃণিত। ওগুলোর মধ্যে এক প্রকার হল ইসলামের নিয়ামত পেয়েও যে জাহিলিয়াতের সংস্কৃতি কামনা করে।
এসম্পর্কে (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৬৮৮২) নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
أبغض الناس إلى الله ثلاثه ملحد فى الحرم ومبتغ فى الإسلام سنة الجاهلية ومطلب دم إمرء إلا لحق مسلم.
(অর্থাৎ তিন শ্রেণির মানুষ আল্লাহ তা'আলার নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত, তন্মধ্যে এক প্রকার হল যারা ইসলামের মধ্যে থেকেও জাহেলিয়াতের রীতিনীতি কামনা করে।)
একজন মুসলমানের জন্য জাহিলিয়্যাত কামনা করা কতটুকু নিন্দনীয় তা উপরিক্ত হাদিস থেকে সুস্পষ্ট।
আল্লাহ সবাইকে বুজার তাওফিক দান করুক
উত্তরমুছুন